হাতকড়া এনামুলের হাতে

Delhi District News India News West Bengal

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,নিউ দিল্লি,১৯ শে ফেব্রুয়ারি: অবশেষে ইডির হেফাজতে এনামুল। ২০২০-র পর ‘২২ সালে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়ে যায়। জেল থেকে ছাড়া পায় এনামুল। তবের এরপর আবার হেফাজতে গরুপাচারকাণ্ডের মূলচক্রি। শনিবারই তাকে স্পেশ্যাল কোর্টে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। দিল্লি থেকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট গ্রেফতার করেছে এনামুলকে।

শনিবার দিল্লির রাউজ এভিনিউ আদালতে তাকে তোলার কথা রয়েছে। ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর আসানসোলের সিবিআই আদালতে আত্মসমর্পণ করে এনামুল। এরপর সিবিআই গ্রেপ্তার করে তাকে। প্রায় দু’বছর কারাবন্দী ছিল সে। এরপর কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। তবে সুপ্রিম কোর্ট আবেদন মঞ্জুর করে। ছাড়া পায় এনামুল। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎপর হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

গরু, কয়লা সবরকমের কেলেঙ্কারি নিয়ে নিয়ে তদন্ত শুরু করে তারা। যদিও একে কেন্দ্রের ‘রাজনৈতিক চাল’ বলেই কটাক্ষ করেছিল এরাজ্যের শাসক দল। সস্ত্রীক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ডাকা হয়েছিল দিল্লিতে। সম্প্রতি নিজাম প্যালেসে ডাকা হয়েছিল তৃণমূল সাংসদ দেব ওরফে দীপক অধিকারীকেও। এনামুলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে, একথা বিভিন্ন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছিল। এমনকী দেবের নামও তাদের মুখ থকে শোনা গিয়েছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদে দেব জানান, তিনি এনামুলকে চেনেন না।

গোয়েন্দাদের দাবি,কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া সাংসদ – অভিনেতা দেবের একটি সিনেমায়। জানা গিয়েছে, ওই সিনেমায় এক বক্সারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দেব। রুক্মিণীও ওই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন, এবং ওই সিনেমার অন্যতম প্রযোজক ছিল দেবেরই একটি সংস্থা। এখন প্রশ্ন এই টাকা বিনিয়োগের মধ্যে কি কোনো মিডল ম্যান রয়েছে ? নাকি সরাসরি টাকা বিনিয়োগ হতো? তার উত্তর এ খুঁজছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা। তাদের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার এক ব্যবসায়ীও রয়েছে, যার নাম কয়লা পাচারকাণ্ডেও উঠে এসেছিল। ওই ব্যবসায়ীই কি যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন? নাকি পিন্টু মণ্ডল নামের সহকারী প্রযোজক সেই মিডলম্যানের ভূমিকায় ছিলেন? তা জানার চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসাররা।

এবার ইডির হাতে ফের এনামুল। মুর্শিদাবাদের এক ব্যবসায়ী সে। গরুপাচারের তদন্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জড়ায় এনামুলের নাম। একটি নয়, এই ব্যবসায়ীর অসংখ্য ঠিকানা। কলকাতার বেশ কয়েকটি ঠিকানা এবং মুর্শিদাবাদের কয়েকটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। চালকল, পাথর খাদান, আবাসন ও নির্মাণ শিল্প, বালির কারবার-সহ একাধিক বেআইনি কারবারেও এনামুল যুক্ত বলে তদন্তকারীদের দাবি। এছাড়াও তাঁর নামে-বেনামে বহু সম্পত্তিরও খোঁজ মেলে। বাংলা থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। এরপর আবারও গরুপাচারকাণ্ডে তদন্তের জন্যই দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত এনামুলকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *